আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ফের রিমান্ডে এমপি নজরুল
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ফের রিমান্ডে এমপি নজরুল
বিস্তারিত কমেন্টে ...

প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৪৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ফের রিমান্ডে এমপি নজরুল

ফাইল ছবি

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেনঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন।

এর আগে প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ড শেষে নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তার বিরুদ্ধে আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলাটিতে নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান এবং এমপি নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ ওই রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন।

পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রিমান্ড শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড শেষ হলে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে ফের রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

এ মামলার অপর আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এজাহারে যা বলা হয়েছে

মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়ম সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে বসবাস করতেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিষয়গুলো মরিয়ম তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের সময় তার বিছানার ওপর কয়েকটি চিরকুট পাওয়া যায় বলেও মামলার এজাহারে বলা হয়েছে। এসব চিরকুটে সম্পর্ক, বিশ্বাস ও মানসিক কষ্টের বিষয়ে বিভিন্ন কথা লেখা ছিল।

এজাহার অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে মরিয়ম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বহিষ্কার

এর আগে গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা হয়।

প্রাথমিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।

পরবর্তীতে সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। পরে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়।

  • সর্বশেষ