চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যেকোনো এক দিন ফল প্রকাশের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর ফল প্রকাশের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
তিনি জানান, চলতি মাসের ২৫ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মৌখিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পর ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষার্থীদের জন্য সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের অধীনে ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এ ছাড়া যশোর বোর্ডে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন এবং কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষার্থী ছিল।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়।
সব মিলিয়ে, শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তাব অনুযায়ী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ফল প্রকাশের চূড়ান্ত দিন নির্ভর করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ওপর।