চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস থেকে অংশ নেওয়া ৩৮২ শিক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবে স্কুলটির দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ছিল ৪৮৫ জন। টেস্ট বা নির্বাচনি পরীক্ষায় ১০৩ জন অনুত্তীর্ণ হওয়ায় তারা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি নজরে আসে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের। নিয়ম মেনে শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে গত ১৬ আগস্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে বোর্ড।
প্রশ্ন উঠেছে, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করলে কি একজন শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার সুযোগ রয়েছে? শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা কী বলছে?
বোর্ডের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও যোগ্যতা যাচাইয়ে নির্বাচনি বা টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হয়। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের অন্যতম শর্ত।
পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে, বোর্ড অনুমোদিত বিদ্যালয় থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করে বোর্ডে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী নিজ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণের ক্ষেত্রে বৈধ নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াও প্রয়োজন।
এ ছাড়া ২০১৮ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক বিশেষ নির্দেশনায় এসএসসি ও এইচএসসির নির্বাচনি পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মূল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নির্বাচনি পরীক্ষার উত্তরপত্র ও খাতা ফল প্রকাশের পর অন্তত ছয় মাস সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়।
তবে নিয়মের অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী টেস্ট পরীক্ষায় পাস করতে হয়। কিন্তু কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান জিপিএ-৫ পাওয়ার সম্ভাবনা কম এমন শিক্ষার্থীদের ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়ে ফরম পূরণের সুযোগ না দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
তার মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিজেদের সেরা প্রমাণের প্রবণতা থেকে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অথচ শিক্ষা বোর্ড কোনো র্যাংকিং করে না।
এদিকে, নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ৪৮৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০৩ জন টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় তাদের বাদ দিয়ে ৩৮২ জনকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। স্কুলটির দাবি, তাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা রয়েছে এবং বোর্ডের নোটিশের জবাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেওয়া হবে।