ঘুমের ঠিক ঘোরে হঠাৎ করে মনে হয় যেন ওপর থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছেন এবং সাথে সাথে ঝাকুনি দিয়ে ঘুম ভেঙে যাওয়া এই অতিপরিচিত অভিজ্ঞতাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘হিপনিক জার্ক’ (Hypnic Jerk) বা ‘মাইওক্লোনিক জার্ক’। এটি কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের একটি স্বাভাবিক ও নির্দোষ স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া।
মস্তিষ্কের ভুল বার্তা বা মিসফাায়ারিং: জাগরণ থেকে ঘুমে যাওয়ার এই রূপান্তরকালে শরীরের পেশিগুলো শিথিল হতে শুরু করে। তবে কখনো কখনো মস্তিষ্ক এই হঠাৎ শিথিলতাকে বিপদের সংকেত বা 'পড়ে যাওয়া' বলে ভুল করে। নিজেকে রক্ষা করার স্বয়ংক্রিয় প্রয়াসে মস্তিষ্ক দ্রুত পেশিতে একটি বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠায়, যার ফলে শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে।
শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি: মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা সারাদিনের অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের পর ঘুমাতে গেলে এই ঝাঁকুনির প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়।
ক্যাফেইন ও উদ্দীপক পদার্থ: ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত চা, কফি বা ধূমপানের অভ্যাস স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত রাখে, যা স্বাভাবিকভাবে ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
অনিয়মিত ঘুমের দিনপঞ্জি: পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বা অনিয়মিত সময়ে ঘুমানোর অভ্যাসের কারণে মস্তিষ্কের স্লিপ-ওয়েক চক্র (Sleep-wake cycle) এলোমেলো হয়ে যায়।