প্রকাশিত : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বেশি কথা বলেন নারী, নাকি পুরুষ?

ছবি : সংগৃহীত

নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি কথা বলেন,সমাজে এমন ধারণা বহুদিনের। কিন্তু এই ধারণার পেছনে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কতটা রয়েছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। এবার বড় পরিসরে মানুষের দৈনন্দিন কথোপকথনের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা নারী ও পুরুষের কথা বলার পরিমাণ নিয়ে নতুন কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন।

এর আগে একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, নারী ও পুরুষ উভয়েই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬ হাজার শব্দ ব্যবহার করেন। তবে সেই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। নতুন গবেষণায় আরও বেশি মানুষের দীর্ঘ সময়ের কথোপকথনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

চারটি দেশের ১০ থেকে ৯০ বছর বয়সী ২ হাজার ১৯৭ জন নারী ও পুরুষের অডিও রেকর্ড নিয়ে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। প্রায় আট বছর ধরে সংগৃহীত এসব তথ্যের মধ্যে ছিল প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার অডিও রেকর্ড।

২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সে স্পষ্ট পার্থক্য

সব বয়সের মানুষকে একসঙ্গে বিবেচনা করলে নারী ও পুরুষের কথা বলার পরিমাণে খুব বেশি পার্থক্য পাওয়া যায়নি। তবে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মানুষের ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন।

এই বয়সসীমার নারীরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২১ হাজার ৮৪৫টি শব্দ ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে দৈনিক গড় শব্দ ব্যবহারের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ হাজার ৫৭০টি।

অর্থাৎ, এই বয়সের নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার ২৭৫টি বেশি শব্দ ব্যবহার করেছেন।

তবে কেন এই নির্দিষ্ট বয়সে নারীদের কথা বলার পরিমাণ বেশি এর সুনির্দিষ্ট কারণ গবেষকরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা এবং জীবনের এই পর্যায়ে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

কমছে সামনাসামনি কথাবলার প্রবণতা

গবেষণায় মানুষের যোগাযোগের ধরনেও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০০৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, সময়ের সঙ্গে মানুষের মুখোমুখি কথোপকথনের পরিমাণ কমেছে।

২০০৫ সালে একজন মানুষ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬ হাজার শব্দ বলতেন। ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী সেই গড় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ হাজার শব্দে।

গবেষকদের মতে, যোগাযোগের ধরন পরিবর্তন এর অন্যতম কারণ হতে পারে। সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি বর্তমানে মানুষ টেক্সট মেসেজ, অনলাইন চ্যাট ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন। তবে ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারই মুখে কথা বলার পরিমাণ কমে যাওয়ার একমাত্র কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

তাহলে বেশি কথা বলেন কে?

গবেষণার ফলাফল থেকে নারী বা পুরুষ কোনো একটি পক্ষকে সব বয়সে বেশি কথা বলা মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। বয়স ও সামাজিক ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে কথাবলার পরিমাণে পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় বেশি শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে ‘নারীরাই সবসময় বেশি কথা বলেন’এমন প্রচলিত ধারণাকে পুরোপুরি সত্য বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি একেবারে ভিত্তিহীন বলাও যায় না। মানুষের বয়স, পারিবারিক ও সামাজিক ভূমিকা এবং যোগাযোগের ধরন সবকিছু মিলিয়েই কথা বলার পরিমাণে পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়