চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল বা কালো দাগ একটি পরিচিত সমস্যা। এটি শুধু সৌন্দর্যের ওপর প্রভাব ফেলে না, বরং ঘুমের অভ্যাস, জীবনযাপন ও কিছু শারীরিক কারণের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত রাত জাগা, মানসিক চাপ ও ক্লান্তির কারণে অনেকের চোখের নিচে কালচে ভাব দেখা দেয়। আবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের কোলাজেন ও চর্বির পরিমাণ কমে গেলে ত্বক পাতলা হয়ে যায়। এতে চোখের নিচের রক্তনালিগুলো বেশি দৃশ্যমান হওয়ায় ওই অংশটি তুলনামূলক গাঢ় দেখাতে পারে।
ডার্ক সার্কেল হওয়ার কারণ:
চোখের নিচে কালো দাগ পড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। দীর্ঘ সময় মুঠোফোন, কম্পিউটার বা অন্যান্য ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারে চোখে চাপ পড়তে পারে। অ্যালার্জির কারণেও চোখের চারপাশে চুলকানি, ঘষাঘষি ও কালচে ভাব তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া শরীরে পানির ঘাটতি হলে ত্বক শুষ্ক ও নিষ্প্রভ দেখাতে পারে এবং চোখের নিচের অংশ আরও গাঢ় মনে হতে পারে। অতিরিক্ত সূর্যের আলোতে ত্বকে মেলানিনের উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় চোখের চারপাশের কালচে ভাবও বাড়তে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও ডার্ক সার্কেল দেখা যায়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন:
সাধারণত চোখের নিচের কালো দাগ গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয়। তবে কালচে ভাবের পাশাপাশি চোখ অতিরিক্ত ফুলে যাওয়া, শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্বাভাবিক ফোলা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডার্ক সার্কেল কমাতে যা করবেন:
জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে চোখের নিচের কালচে ভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত পানি পান এবং পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এড়িয়ে মাঝে মাঝে চোখকে বিশ্রাম দিতে হবে।
রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ও চোখের চারপাশের প্রসাধনী ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত। চোখের চারপাশের ত্বকে কোনো ক্রিম বা প্রসাধনী ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ঠাণ্ডা সেঁক দিতে পারেন:
চোখের নিচের ফোলা ও ক্লান্তি কমাতে ঠাণ্ডা সেঁক কিছুটা উপকারী হতে পারে। পরিষ্কার কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে অল্প সময়ের জন্য চোখের ওপর রাখা যায়। ঠাণ্ডা টি-ব্যাগ বা শসার টুকরোও অনেকে ব্যবহার করেন। তবে বরফ সরাসরি ত্বকে লাগানো উচিত নয় এবং চোখে কোনো ধরনের জ্বালা বা অস্বস্তি হলে তা ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
ঘুমানোর সময় মাথা সামান্য উঁচু করে রাখলে চোখের নিচে তরল জমে ফোলা ভাব তৈরি হওয়া কিছুটা কমতে পারে।
ডার্ক সার্কেল দীর্ঘদিন ধরে থাকলে বা ঘরোয়া যত্নে না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা, যেমন নির্দিষ্ট স্কিন কেয়ার উপাদান বা লেজার থেরাপির পরামর্শ দিতে পারেন। এসব চিকিৎসা অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে করা উচিত।
সঠিক ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ত্বকের যত্ন এই কয়েকটি অভ্যাস চোখের নিচের কালচে ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে।