জাতিসংঘে জাইমা রহমানের লিগ্যাল অফিসারের কাজ কী?
জাতিসংঘে জাইমা রহমানের লিগ্যাল অফিসারের কাজ কী?
বিস্তারিত কমেন্টে ...

প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জাতিসংঘে জাইমা রহমানের লিগ্যাল অফিসারের কাজ কী?

ফাইল ছবি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ বা আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তার এই দায়িত্ব পাওয়ার পর পদটির কাজ, দায়িত্বের পরিধি এবং নিয়োগের যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সভাপতির কার্যালয়ের লিগ্যাল অফিসার জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় আইন বিভাগের কর্মকর্তা নন। তিনি মূলত সাধারণ পরিষদের সভাপতির আইনি পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন এবং সভাপতির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম জাতিসংঘের বিধি, সনদ ও প্রচলিত রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সহায়তা করেন।

সাধারণ পরিষদে কোনো প্রস্তাব বা রেজুলেশন কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, কোনো সদস্য রাষ্ট্র ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তুললে কী ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে কিংবা কোনো সংশোধনী বিধিসম্মত কি না—এসব বিষয়ে সভাপতিকে আইনি পরামর্শ দেওয়া লিগ্যাল অফিসারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

আন্তর্জাতিকভাবে সংবেদনশীল বিভিন্ন ইস্যুতে সাধারণ পরিষদের বিতর্ক পরিচালনার সময় সভাপতির নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেও এই কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সনদের সংশ্লিষ্ট ধারা, বিধিবিধান এবং অতীতের নজির পর্যালোচনা করে সভাপতিকে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কোনো প্রস্তাব জাতিসংঘের নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, বাজেটসংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন কি না—এসব বিষয়ও যাচাই করেন লিগ্যাল অফিসার। জাতিসংঘের প্রধান আইন বিভাগসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তিসংক্রান্ত বিষয়ে সভাপতির বক্তব্য তৈরিতেও তিনি সহায়তা করেন।

সার্বিকভাবে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যক্রম যেন জাতিসংঘের সনদ, আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক রীতির মধ্যে থেকে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করাই লিগ্যাল অফিসারের মূল দায়িত্ব।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে ২৯টি দেশের ৪০ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন। ছয়টি ভাষাভাষী এই দলে জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশি রয়েছেন।

নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ জানান, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে জাতিসংঘের স্থায়ী পেশাদার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সভাপতি তার নিজস্ব এখতিয়ার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করতে পারেন। সাধারণত আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি কিংবা বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের এ ধরনের দায়িত্বে যুক্ত করার নজির রয়েছে।

সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানকে ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের দ্য অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সনদ লাভ করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত একজন অ্যাডভোকেট।

যুক্তরাজ্যে আবাসন, জনকল্যাণ, শ্রম ও স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ দেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ আইন বিষয়ে তিনি প্রো বোনো আইনি সহায়তা দিয়েছেন। সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, ডিজিটাল নিরাপত্তা, বিচার পাওয়ার অধিকার, শিক্ষা ও লিঙ্গসমতা নিয়েও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

জাইমা রহমানের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, লিগ্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা তার রয়েছে। তার মতে, সভাপতির আইনি সহায়তা টিমে কাজ করা জাইমার জন্য আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক আইনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

সূত্র: বিবিসি

  • সর্বশেষ