দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ এহসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন রিমান্ড শেষে গাজী নজরুলকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
এ মামলার অপর দুই আসামি নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান এবং গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন।
যেভাবে মরিয়মের লাশ উদ্ধার
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার বড় মেয়ে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়ম সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও মাকছুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি মরিয়ম তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়মের বাবা দাবি করেন, ঘটনার দিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মোবাইল ফোনে তাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি মেয়েকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।
এজাহারে বলা হয়েছে, মরিয়মের বিছানার ওপর তার লেখা কয়েকটি চিরকুট পাওয়া যায়। এসব চিরকুটে সম্পর্ক, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অন্যের সঙ্গে ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য লেখা ছিল।
এজাহার অনুযায়ী, ওই দিন বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে মরিয়ম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বহিষ্কার:
এর আগে ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন।
পরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।
এরপর সাংগঠনিক তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হয়েছে জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। পরে বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয়।