জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
শুনানির সময় ওবায়দুরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ও হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। তারা বলেন, মরিয়ম ও গাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক, তাদের বিয়ে এবং কাবিননামা নিয়ে বিভিন্ন বিষয় তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা জানতে ওবায়দুরকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
অন্যদিকে ওবায়দুর রহমানের আইনজীবী গোলাম সাবের চৌধুরী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের সম্পর্কের বিষয়ে ওবায়দুর অবগত ছিলেন এবং এ ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আইনজীবীর বক্তব্য, বিয়ের সাক্ষী হওয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার প্রমাণ নয়।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ওবায়দুর রহমানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মাকছুদা ইসলামকেও রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে বুধবার আপসনামা দাখিলের পর আদালত গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলেও মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন