জাতীয় সংসদে নিজ দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে আসন শূন্য হওয়ার বিধানসংবলিত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার রিটটির শুনানি শেষে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। শুনানিতে তিনি নিজেই রিটের পক্ষে বক্তব্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাঁকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী এবং আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।
এর আগে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গত ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে এর আগেও রিট করেছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিভক্ত আদেশ দেন। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুল জারি করলেও অপর বিচারপতি রিটটি খারিজ করে দেন। পরে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি তা হাইকোর্টের তৃতীয় একটি বেঞ্চে পাঠান। শুনানি শেষে ওই বেঞ্চও রিটটি খারিজ করে দেন।
রিট খারিজের পর প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিজয়। তাঁর ভাষ্য, হাইকোর্ট সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা ও কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা আবেদনটি সরাসরি খারিজ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।