সেন্টমার্টিন ভ্রমণে চালু হচ্ছে নতুন নিয়ম
সেন্টমার্টিন ভ্রমণে চালু হচ্ছে নতুন নিয়ম
বিস্তারিত কমেন্টে ...

প্রকাশিত : ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৫২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে চালু হচ্ছে নতুন নিয়ম

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত ও ভ্রমণ নিয়ে জারি করা বিধি-নিষেধে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। এর ফলে পর্যটকদের রাত্রিযাপন এবং দ্বীপ ভ্রমণের সময়সীমায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা গেছে।

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা, পরিবেশবিদ, পর্যটন ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। খবর বিবিসির।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দ্বীপের বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে নতুন গাইডলাইন তৈরি করা হবে।

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পর্যটকদের ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১২টি নির্দেশনা জারি করেছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।

দ্বীপের বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি, এসব বিধি-নিষেধের কারণে গত এক বছরে পর্যটন ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য কিছু বাসিন্দার মধ্যে গাছ কাটা ও অবাধে মাছ ধরার মতো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডও বেড়েছে।

এ কারণে দ্বীপের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত এসব বিধি-নিষেধ শিথিল বা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা সব বিধি-নিষেধ একসঙ্গে বাতিল করা হবে না। পরিবেশ সুরক্ষার জন্য যেসব বিধান যৌক্তিক, সেগুলো বহাল রাখা হতে পারে।

ভ্রমণের সময়সীমা কি বাড়বে:

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১২ দফা নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমানে শুধু ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের অনুমতি রয়েছে।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। নির্ধারিত পর্যটকদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাস দেওয়া হয়। নীতিমালায় এখনো কোনো পরিবর্তন না আসায় নির্ধারিত সংখ্যার বেশি পর্যটক দ্বীপে গিয়ে অবস্থান করতে পারবেন না।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটিতে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে। হঠাৎ করে বিধি-নিষেধ আরোপের ফলে পর্যটন ব্যবসা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি তারা পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।

তবে পর্যটকের সংখ্যা বা ভ্রমণের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, কোন মাস থেকে কোন মাস পর্যন্ত পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে যেতে পারবেন, কতজন পর্যটক রাত্রিযাপন করতে পারবেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কী দাবি এবং পরিবেশগতভাবে দ্বীপটির ধারণক্ষমতা কতটুকু এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে শুনানি ও বৈঠক করা হবে। সবার মতামত বিবেচনা করে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে একটি গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হবে। এতে একদিকে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষা এবং অন্যদিকে দ্বীপের বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকার স্বার্থ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

সেন্টমার্টিনের ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, আগে অক্টোবর থেকে মার্চ এই ছয় মাস পর্যটকদের দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ ছিল। পরবর্তী সময়ে ভ্রমণের সময়সীমা কমিয়ে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি করা হয়। তারা এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন।

তবে পরিবেশবিদদের কেউ কেউ পর্যটন মৌসুম বাড়ানোর পক্ষে নন। পরিবেশবিদ মো. শামসুদ্দোহা বলেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের যাতায়াতের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। এ জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত এবং তা কোনোভাবেই তিন মাসের বেশি হওয়া উচিত নয়।

  • সর্বশেষ