বায়ু বা প্রস্রাব চেপে নামাজ পড়া কি জায়েজ?
ছবি : সংগৃহীত
প্রস্রাব, পায়খানা বা বায়ুর তীব্র বেগ চেপে রেখে নামাজ পড়া মাকরূহে তাহরিমী (গোনাহের কাজ), তবে এ অবস্থায় নামাজ আদায় করলে তা আদায় হয়ে যাবে (পুনরায় পড়া ওয়াজিব নয়)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশ :
হাদিস শরিফে এ বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এর মূল কারণ হলো, নামাজের প্রধান শর্ত "খুশু-খুজু" (মনোযোগ ও নম্রতা)। পেটে কোনো চাপ থাকলে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হয় না।
- সহীহ বুখারী, হাদিস : রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,"যখন নামাজের একামত হয়ে যায় এবং রাতের খাবারও উপস্থিত থাকে, তবে তোমরা আগে খাবার খেয়ে নাও।" —(সহীহ বুখারী: ৫৪৬)
- আবু দাউদ ও তিরমিজি শরীফের হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তির জন্য উচিত নয় প্রস্রাব বা পায়খানার চাপ নিয়ে নামাজে দাঁড়ানো, যতক্ষণ না সে চাপ মুক্ত হয়। (জামে তিরমিজি: ৩৫৭, সুনানে আবু দাউদ: ৯১)
- সহিহ মুসলিমের হাদিস: হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, "খাবারের উপস্থিতিতে এবং প্রস্রাব-পায়খানার বেগ থাকা অবস্থায় কোনো নামাজ নেই (অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ হয় না)।"(সহিহ মুসলিম: ৫৬০)
- মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা :হযরত নাফে (রহ.)-কে এক ব্যক্তি বায়ুর চাপ নিয়ে নামাজ পড়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, *"বায়ুর চাপ বোধ করা অবস্থায় কেউ যেন নামাজ না পড়ে।"
শরীয়তের বিধান ও করণীয়:
- সাধারণ অবস্থায়: ওয়াক্তের পর্যাপ্ত সময় থাকলে আগে টয়লেটে গিয়ে চাপ মুক্ত হতে হবে, এরপর নতুন করে অজু করে নামাজ আদায় করতে হবে।
- হুকুম: চাপ থাকা অবস্থায় নামাজ আদায় করলে তা আদায় হয়ে যায়, তবে কাজটি 'মাকরূহে তাহরিমী' হওয়ায় নামাজে মারাত্মক ত্রুটি থেকে যায়।
- ব্যতিক্রম (ওয়াক্ত চলে যাওয়ার ভয়): যদি টয়লেট ও অজু সারতে গিয়ে নামাজের জামাত বা নির্ধারিত ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে সেই মুহূর্তে চাপ রেখেই নামাজ আদায় করা জায়েজ।