এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর পুনর্নিরীক্ষণ ও মূল্যায়নের ফল আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে। সকাল ১০টার দিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশের কথা জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীরা তিনভাবে পুনর্নিরীক্ষণের ফল জানতে পারবেন।
প্রথমত, নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল দেখা যাবে। দ্বিতীয়ত, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হবে। এ ছাড়া নির্ধারিত ওয়েবসাইটেও ফল পাওয়া যাবে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন। সব মিলিয়ে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ১২ লাখ ৮৮ হাজার। এর মধ্যে লিখিত বা তত্ত্বীয় পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি। ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য আবেদন হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি।
এবারের পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগের ভুল যাচাই নয়, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এত দিন প্রচলিত নিয়মে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না। সাধারণত প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগ বা কোনো নম্বর বাদ পড়েছে কি না, সেসব বিষয় যাচাই করা হতো।
বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্নিরীক্ষণের কারণে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে বাড়তি চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরীক্ষকও নিয়োগ করা হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়ায় ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও প্রায় ১৯ হাজার কমেছে।
দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি। ফলে ফলাফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গত ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি আবেদন করেছেন। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন জমা পড়ে।
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৫৮ হাজার ১২টি আবেদন করেছেন।
এ ছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন।
আগামীকাল ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা ওয়েবসাইট, এসএমএস এবং নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম—এই তিন পদ্ধতিতে নিজেদের পুনর্নিরীক্ষণের ফল জানতে পারবেন।