আলু আমাদের রান্নার অভ্যাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ছোট-বড় সবাই এই সবজিকে ভালোবাসে, আর রান্নায় এর ব্যবহার ছাড়া অনেকেই খাবার কল্পনাও করতে পারেন না। তাই অনেকেই বাজার থেকে অতিরিক্ত আলু কিনে ঘরে মজুত করে রাখেন।
কিন্তু বাড়িতে আলু সংরক্ষণ করতে গিয়ে আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে অনেক আলুর মধ্যে ছোট ছোট শিকড় গজিয়ে ওঠে। এমন আলুকে বলা হয় ‘অঙ্কুরিত আলু’।
অনেকে ভাবেন, অঙ্কুরিত আলু রান্নায় ব্যবহার করলে কোনো সমস্যা হয় না। তাই এ ধরনের আলু বারবার রান্নায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এই অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।
পুষ্টিবিদরা জানান, সাধারণ আলুতে স্বাভাবিকভাবেই থাকে ‘সোলানাইন’ ও ‘ক্যাকোনাইন’ নামক গ্লাইকোঅ্যালকয়েড। সামান্য পরিমাণে এই উপাদান শরীরের রক্তচাপ ও শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু যখন আলুতে অঙ্কুর গজাতে শুরু করে, তখন এই উপাদানের পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পায়। শরীরে অতিরিক্ত গ্লাইকোঅ্যালকয়েড প্রবেশ করলে এটি বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, পাচনতন্ত্রে সমস্যা তৈরি করে, মাথাব্যথা ও স্নায়বিক জটিলতা ঘটাতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, একসাথে বেশি পরিমাণে অঙ্কুরিত আলু খাওয়ার ফলে জীবনঘাতী সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এ ধরনের আলু একেবারেই বিপজ্জনক।
অনেকে শিকড় কেটে বাকি অংশ রান্নায় ব্যবহার করেন, কিন্তু এতে কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। কারণ, গ্লাইকোঅ্যালকয়েড শুধু শিকড়েই নয়, পুরো আলুতেই থাকে।
সেরা উপায় হলো, আলু অতিরিক্ত কিনে দীর্ঘ সময় ঘরে রাখবেন না। যদি সংরক্ষণ করতে হয়, তবে আলু অন্ধকার ও ঠান্ডা স্থানে রাখুন। এতে আলুতে অঙ্কুর গজানো বন্ধ থাকবে এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমবে।