মাগুরায় আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা অস্বীকার, এজাহার ও অভিযোগ পত্রে অসঙ্গতি
মাগুরায় আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা অস্বীকার, এজাহার ও অভিযোগ পত্রে অসঙ্গতি
বিস্তারিত কমেন্টে ...

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল, ২০২৫, ০৮:০১ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাগুরায় আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা অস্বীকার, এজাহার ও অভিযোগ পত্রে অসঙ্গতি

মোঃ তারিকুল ইসলাম তুহিন, জেলা প্রতিনিধি, মাগুরাঃ

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলছে এক মর্মান্তিক আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যার মামলার বিচার। 
গত ৬ মার্চ বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে শিশু আছিয়া ধর্ষণের শিকার হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায়  মৃত্যু ঘটে। ঘটনার প্রায় দুই মাস ধরে চলছে তদন্ত, অভিযোগ গঠন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ। তবে মামলার বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি ও বিতর্ক।

গত ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১৩ মার্চ সে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। তার মা ৮ মার্চ মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

 অভিযোগ চারজন আসামির মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও resulting মৃত্যুজনিত অভিযোগ (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ৯(২) আনা হয়েছে। অন্যদিকে অন্যদিকে বোনের স্বামী ও ভাশুরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারার দ্বিতীয় অংশে (ভয়ভীতি প্রদর্শন) এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে ২০১ ধারায় (অপরাধের আলামত নষ্ট) অভিযোগ গঠন করা হয়।


গত ১৫ মার্চ প্রধান অভিযুক্ত ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, কিন্তু পরে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমরা সবাই তখন বাড়ির বাইরে ছিলাম। আমার ছেলের বউ এই কাজ করেছে।

এজাহারে বলা হয়, ধর্ষণ হয় ৫ মার্চ দিবাগত রাতে, বাইরে নিয়ে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনা ঘটে ৬ মার্চ সকালে, ঘরের ভেতর।

আসামির জবানবন্দি ও আদালতের বয়ানেও অমিল প্রত্যেকে দায় এড়িয়ে একে অপরের দিকে ইঙ্গিত করছেন।

দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারক আশা করছেন, পরবর্তী দিনে আরও ১০ জন সাক্ষী উপস্থিত হবেন। রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত বিচার শেষ করতে সচেষ্ট।

এই মামলায় যেমন হৃদয়বিদারক এক শিশুর মৃত্যু , তেমনি আছে বিচারব্যবস্থার এক কঠিন পরীক্ষা। আসামিদের স্বীকারোক্তি, পরে অস্বীকার, সাক্ষ্যবিভ্রাট ও ঘটনার অসঙ্গতি সবই প্রমাণ করে এই মামলার প্রতিটি ধাপ আরও গভীর অনুসন্ধান দাবি করে।

  • সর্বশেষ