গ্যাস সংকট ঠেকাতে ১৫০ কূপ খনন, নতুন এলএনজি টার্মিনাল
গ্যাস সংকট ঠেকাতে ১৫০ কূপ খনন, নতুন এলএনজি টার্মিনাল
বিস্তারিত কমেন্টে ...

প্রকাশিত : ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৫ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গ্যাস সংকট ঠেকাতে ১৫০ কূপ খনন, নতুন এলএনজি টার্মিনাল

ফাইল ছবি

শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পাশাপাশি ২০৩০–৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আকস্মিক বা সাময়িক গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প খাত যাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে জন্য দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০–৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পাশাপাশি ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য সুলতানা আহমেদের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

সমুদ্রাঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬টি ব্লকে অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় বিড জমা দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি–২০২৬’ প্রণয়নের কাজও চলছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের ভাসমান টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর স্থলভিত্তিক টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় কোনো সুবিধাজনক স্থানে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে জরুরি সময়ে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে।

ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস মূল গ্যাস নেটওয়ার্কে আনতে অন্তত সাত বছর সময় লাগতে পারে। তাই ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে সেখানে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভোলায় গ্যাসনির্ভর শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি একটি সার কারখানা এবং ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি ভোলার অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে এনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করা। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 

  • সর্বশেষ