বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে আবারও নিজের জাত চিনিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সুইডেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় এনে দিয়েছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। তার অনবদ্য পারফরম্যান্সে সহজেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকেন তিনি। ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের জয়ও নিশ্চিত করেন।
এই দুই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮। আর এই কীর্তি গড়তে তার খেলতে হয়েছে মাত্র ১৮টি ম্যাচ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রতি ম্যাচে গড়ে একটি গোল করার এমন ধারাবাহিকতা তাকে সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের কাতারে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি লিওনেল মেসির মাত্র এক গোল পেছনে রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মেসি এই গোলসংখ্যায় পৌঁছাতে খেলেছেন ২৯টি ম্যাচ।
সুইডেনের বিপক্ষে করা প্রথম গোলটি এমবাপ্পের জন্য ছিল আরেকটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯টি। এর মাধ্যমে ব্রাজিলের কিংবদন্তি লিওনিদাস ও রোনালদো নাজারিওকে ছাড়িয়ে নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ গোলের একক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২২ সালের কাতার এবং চলমান আসর—তিন বিশ্বকাপেই ধারাবাহিকভাবে গোল করে যাচ্ছেন এমবাপ্পে। বড় ম্যাচে তার ধারাবাহিক সাফল্য ফ্রান্সকে প্রতিবারই শিরোপার অন্যতম দাবিদারে পরিণত করেছে।
সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ছয়। একই সংখ্যক গোল রয়েছে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিরও। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে দুই সুপারস্টার এখন যৌথভাবে শীর্ষে অবস্থান করছেন।
বিশ্বকাপ যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই উত্তেজনা বাড়ছে গোল্ডেন বুটের লড়াই ঘিরে। একদিকে ইতিহাসের নতুন রেকর্ড গড়ার হাতছানি, অন্যদিকে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট—দুই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছেন এমবাপ্পে। আর তার দুর্দান্ত ফর্মে ফ্রান্সও আবারও শিরোপার অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।