প্রকাশিত : ০৩ মার্চ, ২০২৬, ০১:১৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সূরা ইখলাসের ফযিলত, তাফসির ও আমল — সহিহ হাদিসের আলোকে জান্নাতের সুসংবাদ

ছবি : সংগৃহীত

 সূরা ইখলাসের তাফসির 

 সূরা ইখলাস (سورة الإخلاص)

কুরআনের ১১২ নম্বর সূরা — মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা ৪।

قُلْ هُوَ اللّٰهُ أَحَدٌ
বলুন, তিনি আল্লাহ, একক।

اللّٰهُ الصَّمَدُ
আল্লাহ অমুখাপেক্ষী (সবার প্রয়োজন পূরণকারী)।

لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি।

وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।


বিস্তারিত তাফসির (সংক্ষেপে গভীর ব্যাখ্যা)

১) “قُلْ هُوَ اللّٰهُ أَحَدٌ” — আল্লাহ একক

এখানে “আহাদ” শব্দটি একত্বের চূড়ান্ত প্রকাশ।
? তিনি সত্তা, গুণ ও কর্মে একক।
? তাঁর কোনো শরিক নেই।
? তাওহীদের মূল শিক্ষা এখানে।


২) “اللّٰهُ الصَّمَدُ” — আল্লাহ অমুখাপেক্ষী

“আস-সামাদ” মানে:

  • যিনি কারো মুখাপেক্ষী নন

  • বরং সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী

  • সকল প্রয়োজনের চূড়ান্ত আশ্রয়

মানুষ দুঃখে-সুখে, বিপদে-আপদে কেবল তাঁর কাছেই ফিরে আসে।


৩) “لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ” — তিনি কাউকে জন্ম দেননি

? আল্লাহর কোনো সন্তান নেই
? তিনি কারো সন্তান নন
? সব ভ্রান্ত বিশ্বাসের জবাব এই আয়াতে

এটি আল্লাহর চিরন্তন সত্তার প্রমাণ।


৪) “وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ” — তাঁর সমতুল্য কেউ নেই

? তাঁর মতো কেউ নেই
? তাঁর গুণাবলির তুলনা নেই
? তিনি সৃষ্টির ঊর্ধ্বে

সূরা ইখলাসের আমলের নিয়ম ও ফযিলত 

সূরা ইখলাস (سورة الإخلاص) কুরআনের ১১২ নম্বর সূরা। বিভিন্ন সহিহ হাদিসে এর অসংখ্য ফযিলত বর্ণিত হয়েছে। নিচে প্রামাণিক হাদিসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ ফযিলতগুলো তুলে ধরা হলো—


 কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান

? রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“তোমরা কি এক রাতে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পড়তে অক্ষম?”
সাহাবাগণ বললেন, কে তা পারবে?
তিনি বললেন: ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ (সূরা ইখলাস) কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।

— সহিহ আল-বুখারি, হাদিস নং ৫০১৩

আরেক বর্ণনায়ও এসেছে যে,

“সূরা ইখলাস কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।”

— সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৮১২


আল্লাহ এই সূরাকে ভালোবাসেন, তাই পাঠকারীকে ভালোবাসেন

একজন সাহাবি প্রতিটি রাকাতে সূরা ইখলাস পড়তেন। কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,

“এতে রহমানের গুণাবলি আছে, তাই আমি এটি ভালোবাসি।”

রাসূল ﷺ বললেন:

“তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন।”

— সহিহ আল-বুখারি, হাদিস নং ৭৩৭৫
— সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৮১৩

❤️ শিক্ষা: সূরা ইখলাসকে ভালোবাসা ও বেশি বেশি তিলাওয়াত করা আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার মাধ্যম।


জান্নাতে ঘর নির্মাণ

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি ১০ বার সূরা ইখলাস পড়বে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।”

— মুসনাদ আহমাদ (সহিহ সূত্রে বর্ণিত)


 জান্নাতে প্রবেশের কারণ

এক ব্যক্তি বারবার সূরা ইখলাস পড়তেন। এ সম্পর্কে নবী ﷺ বললেন:

“এর প্রতি তার ভালোবাসাই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।”

— সহিহ আল-বুখারি


 সকাল-সন্ধ্যার আমল হিসেবে

রাসূল ﷺ প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করতেন এবং তা বিভিন্ন কষ্ট ও অনিষ্ট থেকে হেফাজতের জন্য যথেষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন।

— সুনান আবু দাউদ
— সুনান আত-তিরমিজি


সারসংক্ষেপ

সূরা ইখলাসের ফযিলত অত্যন্ত মহান—

✅ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান

✅ আল্লাহর ভালোবাসা লাভের মাধ্যম

✅ জান্নাতে ঘর পাওয়ার আমল

✅ জান্নাতে প্রবেশের কারণ

✅ সকাল-সন্ধ্যার সুরক্ষা আমল

 

  • সর্বশেষ