অনলাইন, শপিং মল কিংবা দোকান থেকে নতুন পোশাক কিনে এনেই পরে নেওয়া অনেকেরই স্বাভাবিক অভ্যাস। পোশাকটি নতুন ও পরিষ্কার দেখালেও সরাসরি গায়ে দেওয়ার আগে একটু সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ উৎপাদন থেকে শুরু করে দোকানের তাক পর্যন্ত পৌঁছানোর পথে পোশাকটি নানা মানুষের সংস্পর্শে আসে এবং এতে রাসায়নিক উপাদান, ধুলাবালি কিংবা জীবাণু লেগে থাকতে পারে।
রাসায়নিক ও রঙের প্রভাব:
কাপড়কে দীর্ঘস্থায়ী, মসৃণ কিংবা নির্দিষ্ট রঙের করতে উৎপাদনের সময় বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এসব উপাদান সংবেদনশীল ত্বকের সংস্পর্শে এলে চুলকানি, লালচে ভাব, জ্বালাপোড়া কিংবা অ্যালার্জিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যের শরীরের সংস্পর্শ:
দোকানে একটি পোশাক কেনার আগে অনেকেই ট্রায়াল দিয়ে দেখেন। ফলে কাপড়ে ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ বা বিভিন্ন ধরনের জীবাণু লেগে থাকতে পারে। বিশেষ করে সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসা পোশাকের ক্ষেত্রে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া ভালো।
ধুলাবালি ও সংরক্ষণের ময়লা:
গুদাম, পরিবহন ও দোকানে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে নতুন পোশাকে ধুলা-ময়লা বা অন্যান্য ক্ষুদ্র কণা জমতে পারে। এগুলো ত্বকে অস্বস্তি, চুলকানি বা র্যাশের কারণ হতে পারে।
নতুন পোশাক কেনার পর সরাসরি পরার বদলে আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াই নিরাপদ অভ্যাস। পোশাকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ডিটারজেন্ট ও পানি ব্যবহার করে ধুয়ে নিয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে তারপর পরা উচিত। বিশেষ করে অন্তর্বাস, শিশুদের পোশাক ও ত্বকের সঙ্গে সরাসরি লেগে থাকে এমন কাপড় ধুয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা ভালো।
পোশাক যত দামি বা নামী ব্র্যান্ডেরই হোক, নতুন মানেই জীবাণুমুক্ত এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কয়েক মিনিটের সচেতনতা ত্বকের অস্বস্তি ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করতে পারে।