প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:২৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চিয়া সিড খেলে বিপদ? জানুন সতর্কতার নিয়ম

ছবি: তথ্য ভান্ডার

ওজন নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে শরীরের সামগ্রিক পুষ্টি—স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাবারের তালিকায় চিয়া সিডের জনপ্রিয়তা এখন বেশ। ছোট আকারের এই বীজে রয়েছে ফাইবার, উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তবে পুষ্টিকর হলেই যে এটি সবার জন্য একইভাবে উপকারী, তা নয়। কিছু শারীরিক অবস্থা ও ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে চিয়া সিড খাওয়ার আগে বাড়তি সতর্কতা দরকার।

কেন এত জনপ্রিয় চিয়া সিড?

চিয়া সিডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতে থাকা প্রচুর দ্রবণীয় ফাইবার। পানিতে ভিজলে বীজগুলো ফুলে জেলির মতো আকার ধারণ করে। ফলে এটি খাওয়ার পর কিছুটা দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকতে পারে, যা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ কমাতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণেই ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকায় চিয়া সিডের ব্যবহার বেড়েছে।

এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও সামগ্রিক পুষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় খাবারের পর রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধির প্রবণতা কমাতেও এটি কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

কারা খাবেন সতর্ক হয়ে?

রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবনকারী: নিয়মিত এ ধরনের ওষুধ গ্রহণ করলে নিজের ইচ্ছায় বেশি পরিমাণে চিয়া সিড খাওয়া উচিত নয়। খাদ্যতালিকায় এটি নিয়মিত যোগ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

লো ব্লাড প্রেসারের ক্ষেত্রে: চিয়া সিড রক্তচাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কম, তারা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার মতো সমস্যা অনুভব করতে পারেন।

হজমের সমস্যা থাকলে: বেশি ফাইবার একসঙ্গে গ্রহণ করলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা পেটব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে আইবিএস বা সংবেদনশীল হজমব্যবস্থার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

শুকনো চিয়া সিড খাবেন না

চিয়া সিডের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাগুলোর একটি হলো শুকনো অবস্থায় সরাসরি না খাওয়া। পানি পেলে বীজ দ্রুত ফুলে যায়। তাই পর্যাপ্ত তরল ছাড়া শুকনো চিয়া সিড খেলে গলা বা খাদ্যনালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

খাওয়ার আগে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পানি, দুধ, দই বা অন্য কোনো তরলে ভিজিয়ে নিলে বীজগুলো নরম ও ফুলে যায়। সাধারণভাবে দিনে ১–২ টেবিল চামচ চিয়া সিড অনেকের খাদ্যতালিকায় রাখা হয়, তবে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি

চিয়া সিডে ফাইবার বেশি থাকায় এটি খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা দরকার। হঠাৎ বেশি ফাইবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত তরল না খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যসহ বিভিন্ন হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সবশেষে, চিয়া সিডকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যের একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে, তবে এটি কোনো ‘ম্যাজিক ফুড’ নয়। সঠিক পরিমাণে ও সঠিক পদ্ধতিতে খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ কোনো রোগ থাকলে কিংবা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে খাদ্যতালিকায় চিয়া সিড যোগ করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

  • সর্বশেষ