কুরবানির মাংস সংরক্ষণে ভুল পদ্ধতি ডেকে আনতে পারে বিপদ
ছবি: তথ্য ভান্ডার
কোরবানির ঈদে ঘরে ঘরে মাংসের ছড়াছড়ি থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ। কারণ অসাবধানতা বা ভুল পদ্ধতিতে মাংস রাখলে দ্রুত জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। এতে যেমন স্বাদ নষ্ট হয়, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে দীর্ঘদিন পর্যন্ত কোরবানির মাংস নিরাপদ ও ভালো রাখা সম্ভব।
বেশি সময় খোলা অবস্থায় রাখবেন না
কোরবানির মাংস বাসায় আনার পর দীর্ঘসময় খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা উচিত নয়। সাধারণত ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যেই সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা ভালো। এতে মাংসের সতেজতা বজায় থাকে এবং দূষণের ঝুঁকি কমে।
জবাইয়ের পরই ফ্রিজে রাখা ঠিক নয়
অনেকেই পশু জবাইয়ের পরপরই মাংস ফ্রিজে রেখে দেন বা রান্না শুরু করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জবাইয়ের পর কয়েক ঘণ্টা মাংস শক্ত থাকে। তাই অন্তত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাংস নরম হলে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে তারপর সংরক্ষণ করা উচিত। এতে মাংসের স্বাদ ও গুণগত মান ভালো থাকে।
ফ্রিজে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যা মানবেন:
ফ্রিজ পরিষ্কার রাখা জরুরি:
মাংস রাখার আগে ফ্রিজ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। পাশাপাশি ফ্রিজের তাপমাত্রাও সঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।
আলাদা করে রাখুন:
কাঁচা মাংস, রান্না করা খাবার ও মাছ একসঙ্গে রাখলে ক্রস-কন্টামিনেশনের ঝুঁকি বাড়ে। তাই আলাদা পাত্র বা প্যাকেটে রাখা নিরাপদ।
ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করুন:
একবারে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু করে আলাদা প্যাকেট বানিয়ে রাখুন। এতে বারবার পুরো মাংস গলাতে হবে না এবং মাংসের মানও ভালো থাকবে।
বাতাস ঢুকতে দেবেন না:
জিপলক ব্যাগ বা ফুড-গ্রেড প্যাকেটে মাংস রাখার সময় ভেতরের বাতাস বের করে দিন। কারণ বাতাস থাকলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত জন্মাতে পারে।
খবরের কাগজে মোড়ানো বিপজ্জনক:
অনেকে মাংস খবরের কাগজে মুড়িয়ে রাখেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কাগজের কালি খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।
তারিখ লিখে রাখুন:
প্রতিটি প্যাকেটে সংরক্ষণের তারিখ লিখে রাখলে কতদিন ধরে মাংস রাখা হয়েছে তা সহজেই বোঝা যায়।
ডিপ ফ্রিজের সঠিক তাপমাত্রা:
দীর্ঘদিন মাংস সংরক্ষণ করতে চাইলে ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ থেকে মাইনাস ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে হবে। এই তাপমাত্রায় গরুর মাংস ৮ থেকে ১০ মাস পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে খেয়ে ফেলাই সবচেয়ে ভালো।
জ্বাল দিয়ে সংরক্ষণের পুরোনো কৌশল:
ফ্রিজে জায়গা কম থাকলে মাংস জ্বাল দিয়েও সংরক্ষণ করা যায়। এটি অনেক পুরোনো কিন্তু কার্যকর একটি পদ্ধতি।
চর্বিযুক্ত মাংসে লবণ ও হলুদ মিশিয়ে ভালোভাবে জ্বাল দিতে হবে।
এতে জীবাণু ধ্বংস হয় এবং মাংস বেশি সময় ভালো থাকে।
গরমে প্রায় ১২ ঘণ্টা ও শীতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।
প্রতিদিন পুনরায় গরম করে ঠান্ডা করলে কয়েকদিন ভালো রাখা যায়।
রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ:
গ্রামবাংলায় এখনও অনেকেই রোদে শুকিয়ে মাংস সংরক্ষণ করেন।
চর্বিহীন মাংস পাতলা করে কেটে রোদে শুকাতে হবে।
ধুলোবালি ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে নেট বা পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে।
মাঝে মাঝে রোদে দিলে পোকা ধরার ভয় কমে যায়।
রোদে শুকানো মাংস রান্নার আগে কিছু সময় হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তা নরম হয়ে যায় এবং রান্নাও সহজ হয়।